বর্তমান এই তথ্য প্রযুক্তির যুগ এবং এই সোশ্যাল মিডিয়ার যে যুগ তাকে আমি বলবো একটি মহান এবং উদার যুগ।

এখন ইচ্ছা করলেই আপনি ঘরে বসে পেতে পারেন অনেক অমূল্য তথ্য, পেতে পারেন অনেক উৎসাহ, জানতে পারেন অনেক মানুষের সাফল্যের কাহিনী। অকপটে মানুষ তাদের অভিজ্ঞতা বয়ান করছেন আপনাকে শেখানোর চেষ্টা করছেন এবং তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে গোটা বিশ্বে । আপনার আমার সকলের কাছে। নিঃসন্দেহে আমরা খুবই ভাগ্যবান।

কিন্তু একটা সময় ছিল যখন গুগল ছিল না, ইউটিউব ছিল না, ছিল না অবারিত তথ্য পাওয়া’র সুযোগ সুবিধা । তখন কষ্টটা একটু বেশিই  ছিল তবে অনেক অনেক বই পড়ার কারণে পরবর্তী জীবনে আবার অনেক কাজে লাগতো। তাই সেটা ও ছিল একটি সুন্দর সময়।

এখন দেখছি নতুন প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ ক্রমশ কমে যাচ্ছে। একটি দুঃখজনক।

আমি আমার এই লেখাতে আহ্বান জানাই সবাইকে র।

আমি উৎসাহিত করছি বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদেরকে সকল প্রকারের বই পড়ার অভ্যাস  নিজেদের মধ্যে তৈরি করুন কারণ বইয়ে’র মধ্যে যে জিনিসটি পাওয়া যাবে তা  সোশ্যাল মিডিয়াতে বা গুগল এ হয়ত কোনভাবেই পাওয়া যাবে না।

 

গুগল থেকে আপনি ইনফরমেশন বা তথ্য পাবেন সঠিক তথ্য পাবেন তাতে সন্দেহ নেই। 

 

কিন্তু, কিন্তু, কিন্তু বইয়ের মধ্যে লেখা কালো অক্ষর, বইয়ের পাতা ফিজিক্যালি উল্টানো এবং বইয়ের যে একটি মিষ্টি সুগন্ধ, সেটা উপভোগ করে যে অনাবিল শান্তি এবং মস্তিষ্কের মধ্যে যে অনুরণন সৃষ্টি হয় এবং পরবর্তীতে আমাদের মস্তিষ্কের তথ্যভাণ্ডারে যুক্ত হয়; এর কিন্তু তুলনা কোন প্রকারেই  হবে না আপনার ল্যাপটপ অথবা ট্যাবলেটের স্ক্রিন অথবা মোবাইলের স্ক্রিনের সাথে। কিন্তু কিন্তু থেকেই যাবে।

আমি জানি বর্তমানে একটি মোবাইল এত সহজ লভ্য যে খুব অনায়াসে  আপনি যে কোনো বই পড়ে ফেলতে পারেন যে কোন ওয়েবসাইটে গিয়ে। আমি এটাকে ও ভালো মনে করি, কিন্তু আমি উৎসাহিত করছি একটি বাইন্ডিং করা রিয়েল বুক পড়ার জন্য।

 

আমি বলছি কারণ এই যে আমি জানি এটি আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরী এবং অবশ্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

আমি মনে করি বই হচ্ছে সবচাইতে বড় অভিভাবক। এমন এক অভিভাবক তার কখনো মৃত্যু হবে না। রোগ ব্যাধি তাকে আক্রমণ করবে না। জরাগ্রস্ত হবে না সে। তাই পাশে থেকে চিরদিন দিয়ে যাবে উৎসাহ,উদ্দীপনা। অনবরত বিতরণ করবে দরকারী সকল জ্ঞান।

আমি আমাদের সর্বশ্রদ্ধেয় বিজ্ঞজন নাট্যজন সদ্যপ্রয়াত আলী যাকের স্যার কে বলতে শুনেছি যে তিনি যখন ছাত্র অবস্থায় তার অভিভাবক হারান অর্থাৎ মাত্র দু’তিন বছরের মধ্যে তার বাবা-মা এবং তার  ১৭ বছরের বড় দিদিকে হারান, ঠিক তখন তিনি বইয়ের মাধ্যমে তার এক বিশ্বস্ত অভিভাবক ফিরে পান, খুঁজে পান। সে অভিভাবক ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। কবি গুরুর বই গুলো পড়ে, তিনি মনের মধ্যে এক অদম্য শক্তি ফিরে পান। জীবনের সেই চলার পথটা কে কবিগুরুর অজর কবিতা, উপন্যাস এবং তার মধ্যে অন্তর্নিহিত যে ভাবার্থ এবং যে দর্শন,  তা আত্মস্থ করে আলী যাকের স্যার তার দিশা হীন দুর্গম জীবনের পথকে সুগম করেছিলেন। তিনি বলেছেন জীবনের বাঁকে বাঁকে চড়াই-উৎরাই পার হতে গিয়ে যেখানেই আমার ক্লান্তি এসেছে, দুর্বোধ্যতা এসেছে, দুর্বলতা এসেছে ঠিক তখন কবি গুরুর বইগুলো আমাকে পুনরায় শক্তি দিয়েছে, উজ্জীবিত করেছে। তিনি আরো  বলেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সহ অন্যান্য লেখকদের  বই সমুহ পড়ে আমি ভাবতাম বিষ্ময়ে  আসলেই তো জীবনের চিরন্তন পাঠ এইগুলো ! আজ যদি আমার বাবা বেঁচে থাকতেন তাহলে হয়তো উনার থেকে ও এই ধরনের দর্শন আমি পেতাম। এই ধরনের বিবেচনা বুদ্ধি অথবা শাশ্বত চিরায়ত বাণী গুলি হয়তো আমি পেতাম। এই কারণে বাবার মৃত্যু’র পরে যখন আমি বই হাতে তুলে নিলাম এরপর থেকে একদিনের জন্য ও আমি নিজেকে অনাথ ভাবিনি বা এধরনের কোন চিন্তা ও আমার মনে আসেনি কারণ আমি জানতাম আমার যা কিছু চাই তা তো সবই আমি আমার বইয়ে’র মধ্যে পাচ্ছি ।

আমি শক্তিহীন নই, আমি আমার সকল বিষয় সমূহ, সকল জিজ্ঞাসা সমূহ বই পাঠের মাধ্যমে জানতে পারছি ।

আজ তিনি  আমাদের মধ্যে নেই কিন্তু তার এই বাণী গুলি এখনো আমার মনের মধ্যে ভীষণ ভাবে দোলা দেয় । নতুন প্রজন্মে’র জন্য আমি আলী যাকের স্যারে’র এই কথা গুলো পুনরাবৃত্তি করলাম। 

আমি তরুণ প্রজন্মকে উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য বলি। ব্যবসা সংক্রান্ত তথ্য শেয়ার করি। তাদের জন্য সম্ভবমত এবং আমার জানা অনেক অনেক ঘটনা এবং কিছু অভিজ্ঞতা, বাস্তবতা শেয়ার করার চেষ্টা করি।আমি মনে করি আমার জীবনের ভুলত্রুটি অথবা আমার জীবনের অর্জন এগুলোর মধ্য থেকে তরুণদের  শেখার আছে অনেক কিছু। এবং আমি আমার অভিজ্ঞতা অথবা আমার অর্জন এগুলি আমার কবর এ  নিয়ে গিয়ে শুতে চাই না। এগুলি আমি সকলের তরে দিয়ে যাব। এটা আমার ইচ্ছা,এটা আমার অঙ্গীকার।

একদিন এদের মধ্যে থেকে ও উঠে আসবে মহা মনীষী । সেই দিনের অপেক্ষায় রইলাম আর শুভ কামনা।