এই বিশ্ব সংসার একটি অভিনব স্থান বটে, কিন্তু অনেস্টলি মানব সন্তান ও কিছু কম নয় তাই হয়তো সে বিশ্বজয়ের চেষ্টাতে মেতে আছে । প্রকৃতির  প্রক্রিয়ায় মানুষ আসে মানুষ যায় কিন্তু তার দুর্বিনীত প্রচেষ্টা নিরন্তর চলতে থাকে শুধুমাত্র চেহারা বদল হয় মাত্র ।

 

উপরের এই কথাগুলোকে চিরন্তন চালু রাখার জন্য যে শক্তিটি অগ্রগণ্য তা হল তারুণ্য । তরুণ সমাজ বয়সে কাঁচা অভিজ্ঞতায় সীমিত কিন্তু শক্তিতে পরিপূর্ণ কবি নজরুল যেমনটা বলেছিলেন মোদের পায়ের তলায় মুঝে তুফান ঊর্ধ্বে বিমান ঝড় বাদল তারপর তিনি আবার যেটা বলেন সবাই যখন বুদ্ধি যোগায় আমরা করি ভুল সাবধানীরা সব বাদ বাধে আমরা ভাঙ্গি কুল।

 

এতটুকু  বলেই এখন সেই অরুণ প্রাতের তরুণ দল কে নিয়ে তাদের সাফল্যের পথ এবং পথে এগুলোর জন্য কিছু আলোচনা করার চেষ্টা করছি । এই লিখিত জিনিসগুলো একটি বইয়ের রূপ পেতে পারে আবার এগুলো আপনার চিন্তা করার জন্য কিছু গাইডলাইন ও হতে পারে বই হতে পারে আশাকরি এগুলো একটি হার্ডকপি এর রূপ পাবে একদিন। একটি বই মাত্র । অন্য  আরও লাখো কোটি সাধারণ বইয়ের মতই কিন্তু এটি একখানা গাইডলাইন তখন হবে যখন অন্তত সব না হোক কিছু অংশ আপনার হৃদয় প্রোথিত হবে । 

 

মস্তিষ্কে চিন্তার উদ্রেক করবে, আমি ঠিক নিম্নোক্তটি চাই।

 

তাহলে প্রশ্ন করতে পারেন মূল লক্ষ্য আসলে কি ? সাফল্যকে ইন্ডিকেট করছেন তাই নয় কি ? সাফল্য কি সেটা সম্পর্কে আপনি কি বলতে চান ?

 

ওকে, ধন্যবাদ ‌আপনাকে প্রশ্ন করার জন্য ।

সাফল্য একটি আপেক্ষিক ব্যাপার নিজস্ব চিন্তাধারা ধ্যান ধারণা আশা-আকাঙ্ক্ষা আরো অনেক অনেক অভ্যন্তরীণ আর পারিপার্শ্বিকতার ব্যাপার যদিও সফলতা সাফল্য বলতে প্রথমত আমরা বুঝি অর্থনৈতিক অবস্থার কথা ।  সোজা কথায় ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স, সম্পত্তি, কত টাকা আছে ? ইত্যাদি ইত্যাদি । কত কি । এই সবকিছুর খুব সম্ভবত একটি কারণ হচ্ছে এটি করা খুব সহজ এবং একটি হ্যান্ডসাম অ্যামাউন্ট খুব ইম্প্রেসিভ । বিশাল অংকের টাকা থাকলে মানুষজন কোন না কোন দিক থেকে আপনার কিছুনা কিছু ব্যাপার কে ইউনিক মনে করবে । আপনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হবে । এবং যদি আপনি পুরুষ হয়ে থাকেন দেখবেন আপনি মত কদাকার বা  হোন না কেন ?  যতই বদসুরাত আপনি হন না কেন ? মেয়েরা কিছু না কিছু একটা কিউটনেস আপনার মধ্যে অবশ্য অবশ্যই খুঁজে পাবে । এ তো গেল শুধু মাত্র একটি সামাজিক অবস্থার কথা আরো অনেক অনেক বিষয়ে আপনি দেখবেন আপনি খুবই মূল্যবান এবং সবাই আপনার কথা শুনছে । আপনার কথা মেনে  খুবই দামী ইত্যাদি ইত্যাদি কিন্তু কথায় বলে নগদ টাকার পাখা থাকে, উড়ে যাবে একদিন । যেমন একটি গান রয়েছে  “একদিন পাখি উড়ে যাবে যে আকাশে” । তাছাড়া কথায় বলে বসে খেলে, অকর্মণ্য থাকলে আলস্য করলে,  রাজার ধন সম্পদ ও  নাকি একদিন ফুরিয়ে যায় । আলস্য দোষের আকর । টাকা পয়সা পাওয়া অর্জন করায় সাফল্য নয় তাই যদি হতো তাহলে ভেবে দেখুন মাদার তেরেসা তো কোনভাবেই কস্মিনকালেও সফল কেউ হতে পারতেন না, তাই নয় কি ?

 

অতএব বোঝা যাচ্ছে সফলতা একটি আপেক্ষিক জিনিস । এই চরম আপেক্ষিক বিষয়টি একপর্যায়ে পার্সোন টূ পার্সোন ভ্যারি করে।  যেমন ধরুন আপনার পাসপোর্ট, অনেক অনেক কাগজপত্র ব্যাংক ব্যালেন্স শিক্ষা  সনদ ইত্যাদি জরুরী জরুরী সকল কাগজপত্র মিলিয়ে আপনি যখন ইউএসএ বা কানাডীয়  ভিসার জন্য আবেদন করেন, তখন আপনার নিক্তিতে সাফল্য হল শুধু মাত্র ভিসা পাওয়া । 

 

কোন রিয়েলিটি শো প্রতিযোগিদের সাফল্য মানে হচ্ছে প্রতিযোগিতায়  চ্যাম্পিয়ন হওয়া । ইত্যাদি ইত্যাদি বলে শেষ করা যাবে না বুদ্ধিমানের জন্য ইশারা যথেষ্ট ।

 

তাহলে আপনি বুঝে গেছেন আপনার জন্য সাফল্য কি সেটা আপনি নির্ধারণ করতে পারেন আর কেউ নয় ।

 

আপনি যা করছেন তা যদি আপনাকে স্যাটিসফাই করে আন্তরিক ভাবে আপনি আপনার কর্মপদ্ধতি এবং সেই অবস্থান যে অবস্থানে আছেন তা যদি আপনাকে খুশি রাখে । আপনাকে রাজি খুশি রাখে, আপনার মনের সন্তুষ্টি যোগায় তাহলে সেটাই আপনার সফলতা । আপনার সাফল্য ।

 

তবে সিদ্ধান্তটা নিতান্তই আপনার একান্ত নিজস্ব ব্যাপার এবং আমি আপনাকে বলছি, যে যা কিছুই বলুক না কেন আপনি প্রকৃতপক্ষে একজন সফল ব্যক্তি ।

 

ওকে দিস ইজ দা এন্ড অফ দা স্টোরি একটু ছোট করে যদি আমার ব্যক্তিগত অভিমত এখানে শেয়ার করি তাহলে আমি আমার মতে সফলতাকে যে চোখে দেখি তা হচ্ছে নিজের মনোযোগ এবং ব্যক্তিগত উৎকর্ষে, ব্যাংক ব্যালেন্সে যতটা সফল হওয়া সম্ভব তার থেকে একটা অংশ সমাজকে দেয়ার চেষ্টা করা যাতে করে অন্যরা লাভবান হতে পারে । কারণ একটি মোমবাতি দিয়ে হাজারটা মোমবাতি জ্বালানো সম্ভব এবং এতে করে সেই একটি মোমবাতির কিছু কম হয়না ।

কারণ কথায় আছে দিলে তা বাড়ে,  কমে না । আমি আমার কোন আত্মজীবনী লিখে যেতে পারবো কিনা তা আমি জানিনা তবে এতটুকু জানি যদি কিছু কিছু কন্ট্রিবিউশন অনবরত করে যাই  তাহলে পরিসমাপ্তিতে এটা নিজেই আপনি একটা ছন্দময় নিটোল আত্মকথার স্মারক হয়ে থাকবে ।

 

 হয়তো কেউ একদিন সমাধিতে গিয়ে দোয়া পাঠ করে আসবে এর চেয়ে বেশি পাওয়া এর চাইতে বেশী সাফল্য আর কি হতে পারে আমি আসলেই জানি না ।

 

 জীবনের শেষ অধ্যায়ে অর্জিত সবকিছু মে বিলিয়ে  দিয়ে যেতে পারে মানুষের মধ্যে সেই তো মহান । এমন একটি মহান কাজ করে গেছেন এডভোকেট অ্যান্ড্রু কার্নেগী। হোয়াট এ লাইফ !!! তার মৃত্যুর পর একটি ছোট্ট লেখা চিরকুট  বা একটি পুরনো কাগজ তার ড্রয়ারে পাওয়া গিয়েছিল । তাতে তিনি লিখেছিলেন আমি সারাজীবন অর্থ উপার্জন করতে চাই আর জীবন সায়াহ্নে কি চাই ??? 

 

সবকিছু বিলিয়ে দিতে। তিনি একবার অর্থাৎ এন্ড্রু কার্নেগী একবার নেপোলিয়ন হিল কে বলেছিলেন,  আমি চাই না ধনী হবার আমার ফর্মুলা গুলো আমার পর্যবেক্ষণ গুলো আমার সঞ্চিত অভিজ্ঞতা এবং এই এত বছরগুলোর প্রচেষ্টার বস্তুগুলো আমার হাড্ডির সাথে কবরে গিয়ে ধুলোয় মিশে যাক । আমি একদম চাইনা । বরং এগুলো লিপিবদ্ধ করে রাখা উচিত যাতে অনাগতকালের প্রবাহে  ভেসে আসা অগণিত মানব সন্তান আমার অভিজ্ঞতা থেকে কিছু শেয়ার করতে পারে । তা  তার জীবনে যেন কাজে লাগে ।  এগুলো দুনিয়াতে বেঁচে থাক ।

এর আলোকে  নেপোলিয়ন  হিল 20 বছরের সরাসরি অভিজ্ঞতা সম্পন্নতায়  লিখেছিলেন মে বই এবং এরপর যে বইটি দুনিয়াতে সবচাইতে বেশি বিক্রিত বই গুলোর মধ্যে একটি । প্রকাশিত হলো “থিংক অ্যান্ড গ্রো রিচ” ।

আমার বিশ্বাস এটা হল সর্বোত্তম সর্বোচ্চ মহান সফলতা যা নিজেকে আর সবাইকে নিয়ে আবর্তিত হয় 

 

প্রবর্তিত হয় সফলতার নতুন মাত্রা একটি অতুলনীয় সংজ্ঞা

 

 এগুলো বলার পর আমার সাবস্ক্রাইবারদের  থেকে পাওয়া একটি কমন প্রশ্নের একটু আলোচনা করে নেয়া যাক

 প্রশ্ন করা হয় শুরুটা কি করে করব অসংখ্যবার ঢেউয়ের মতো বারবার, বারবার, বারংবার আছড়ে পড়ে এই প্রশ্নটিই সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন অ্যাপস্  অথবা চ্যানেলে অথবা  ফেসবুক পেজ এ ।

 

তাই লিখিত ভাবে কিছু বললে বা বলার চেষ্টা করলে নিতান্ত মন্দ হয় না ।

 

এটি নিঃসন্দেহে আপেক্ষিক একটি প্রশ্ন মূলত এই প্রশ্নের উত্তর আপনার নিজের মধ্যে লুক্বায়িত আছে খুব বিশদ ভাবে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করিনা । 

 

আমি হয়তো একটি পদ্ধতি ব্যাখ্যা করতে পারি । তবে সেটা ফলো করা বা না করার সম্পূর্ণ অধিকার আপনার রয়েছে আবার আপনার সেটাকে একবার ট্রাই করার যুক্তি কথাও  বলা হয়েছে ।

 

শুরুর আগের শুরুটা হয় কিন্তু মন মগজে ।

 

সবার আগে নিজের ব্যক্তিসত্ত্বা  সঠিকভাবে চেনার চেষ্টা করতে হবে । কে আপনি ? কি আপনি করতে চান ? আপনার মন কি বলে আপনার শরীর কি তাতে সায় দেয় ? এবং

আপনার পারিপার্শ্বিক অবস্থান সবকিছু মিলে আপনি কি ভাবছেন ? আপনার ব্যাপারে যদি আপনি ভাবছেন এভরিথিং ইজ ওকে । অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট তাহলে সেটা হচ্ছে প্রাথমিক সময় যখন আপনি একটি বিষয় মাথার মধ্যে রেখে কাজ করবেন সেটা হচ্ছে মানব সেবা

ক্রমশ……….