আপনি যত শত  ব্যবসাযয়িক অর্থনৈতিক কর্ম কাণ্ডে যুক্ত হোন না কেন, যত হাজার কোটি টাকাই  আপনি অর্জন করুন না কেন ;  আপনার মন মগজে সবার আগে থাকতে হবে মানব সেবার বিষয়টি ।

আপনি হয়তো ভাবছেন, আমি কেন টাকা’র কথা বললাম না ! আসলে টাকা এমন একটি জিনিস যা  বাস্তব সত্য এবং একান্ত কাম্য, তবে এটা নিয়ে বেশী  চিন্তা করা যাবে না । চিন্তা করতে হবে বাস্তব কর্ম নিয়ে । এ কর্মই হতে হবে কাম্য। অর্থাৎ মানব সেবা। 

একজন ব্যবসায়ীর হাতে টাকা আসবে সহায়ক  শক্তি হিসেবে । লক্ষ্য উদ্দেশ্য কিন্তু মানব সেবা । কথা বলে “অর্থই অনর্থের মূল”  অতএব আপনার যাবতীয় ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড গুলো  হতে হবে  মানব কল্যাণ মূলক । প্রথম অবস্থা থেকেই সম্পূর্ণ সেবা মূলক একটি প্লাণ  দাঁড় করাবেন  কাগজ  কলমে এবং আমি ধারণা করি আপনি আপনার অবচেতন মনে বিশ্বাস করবেন যে, ইয়েস; হয়ে গেল আমার প্রথম ধাপ আমার টার্গেট সেট । আমি মানবসেবায় বা পণ্য এবং সার্ভিস বা  সেবা নিয়ে কাজ করব এবং বেস্ষ্ট  কাজ করব । মার্কেট প্লেস এ এমন কাজ করব তা অন্য কেউ হয়ত করবে না । তাই মূলত আমার টাকা নিয়ে কোন অমূলক দুশ্চিন্তা করতে হবে না । টাকা তো অটোমেটিক সেকেন্ডারী হিসেবে আমার একাউন্টে চলে আসবে । 

আচ্ছা, এবার বলছি যারা কিছু ছোটখাটো পুঁজি একত্রিত করেছেন যে কিছু একটা করতে হবে ; অফ কোর্স কোন কিছু করতে গেলে  আপনার টাকা’র প্রয়োজন হবে এটি কে অস্বীকার করার কোন অবকাশ নেই । কোনো সুযোগ নেই ।

যখন আপনি কিছু মূলধন নিয়ে মার্কেটপ্লেসে ব্যবসা করতে নামবেন তখন সবার আগে আমি বলব আপনি আপনার এই পূঁজিটাকে তিন ভাগে ভাগ করে ফেলুন।

সবার আগে, আপনার ইচ্ছা মত একটি পার্সেন্টেজ এক বা দুই পার্সেন্ট দান-খয়রাত করে দিন অথবা কোন চ্যারিটেবল অর্গানাইজেশনে দান করে দিন যাদের এই টাকা’র প্রয়োজন রয়েছে এবং এই টাকা দিয়ে হয়তো অনেক মানুষ খাবার পাবে । 

হয়তো অনেক প্রজেক্ট ভালোভাবে চলতে সহায়তা করবে এবং একটা প্রাথমিক চিন্তা নিঃসন্দেহে আপনার মনের মধ্যে উঁকি দিতেই পারে এবং আপনি নিজেকে প্রশ্ন করতে পারেন । আরে, আমি তো এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবসা শুরু করিনি । মূলধন থেকে কেন দেব ?  Wrong ,ভুল কথা ।

প্রথমেই বলেছি আপনার মধ্যে মানব সেবা এবং সেবার একটি মনোভাব থাকতে হবে ব্যবসার অপর নামই কিন্তু সেবা । আপনার দান-খয়রাত করার অভ্যাসটা কিন্তু প্রথম দিন থেকে আপনার মধ্যে থাকতে হবে কোনো বিকল্প নেই । আপনি বলতে পারেন যে যখন আমার কাছে অনেক টাকা হবে আমি তখন একটা বড় এমাউন্ট দান করবো ।

নো নো নো অবশ্যই নয় । এই যে আপনার অভ্যাস । এটাকে ফ্রম ডে ওয়ান আপনাকে চালু করতে হবে । 

এজন্যই হয়ত আমরা বাচ্চাদের দান-খয়রাত করতে আমরা উদ্বুদ্ধ করি একদম ছোট্ট বেলা হতে। কারণ হচ্ছে সে যখন বড় হবে এই অভ্যাসটা তার মধ্যে থেকে যাবে । এখন থেকেই যদি তার মধ্যেই অভ্যাস গড়ে না উঠে তাহলে সে কিন্তু পরবর্তীতে অতটা আমলে নেবে না । এই ব্যাপার গুলি , হুইচ আর  ভেরি ইম্পর্টেন্ট আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস প্রাথমিক বরকত এখান থেকেই আসে ।

বরকত ময় আসমানী ঈশ্বর হাস্য বদনে এটা অবলোকন করেন এবং আমাদের খুব ভালোবাসায় পালন করেন । এটা কি ? আমরা এটাকেই  আমরা বরকত মনে করি।

এরপর আসুন  পার্থিব  দিকে । দান খয়রাত করার পর অবশিষ্ট টাকা তা থাকল  আপনার কাছে তার একটি অংশ অন্য কোন নির্ভরযোগ্য কোম্পানি অথবা অন্য কোনো ব্যক্তি’র কাছে বিনিয়োগ করুন । যাতে করে সেই কোম্পানি অথবা সেই ব্যক্তি ব্যবসা করে লাভবান হতে পারেন এবং একজন অংশীদার হিসাবে আপনি সেই ব্যবসা  থেকে একটি লভ্যাংশ পাবেন । এর পারসেন্টেজ ১৫ % – ২০% হতে পারে।

ইসলামী মতাদর্শের প্রেক্ষিতে বলছি লভ্যাংশ হচ্ছে সেটা যাতে লাভ ক্ষতি দুটো সম্ভাবনা থাকে এবং লাভ’র অংশ পাওয়া যায়  সেটি হচ্ছে লভ্যাংশ । আর যেটি ফিক্সড পারসেন্টেজ লাভ পাওয়া যায় সেটি ইসলামে হারাম । আর বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অবশ্যই কোম্পানিটি বা ব্যক্তিটিকে অবশ্যই নির্ভরযোগ্য হতে হবে । নতুবা শুরুতেই আপনার একটা গোলযোগ ঘটে যেতে পারে। 

যখন টাকাপয়সা লেনদেন করবেন অত্যন্ত সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে।আচ্ছা এরপর  মূলধনের এই অংশে  যাতে আপনি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বিনিয়োগ করলেন  লভ্যাংশ অর্জনের জন্য সেখানে কিছু সময় এবং শ্রম দিতে পারেন যেটা আলোচনা সাপেক্ষ।

এরপর আসুন আপনার মূল ব্যবসায় ।

যেটা কিনা আপনি করবেন নিজেই । অর্থাৎ “কর্তার ইচ্ছায় কর্ম” । দেখুন এখানে সম্পূর্ণ আপনিই প্রধান চরিত্র।

এটি আপনার বিজনেস । কি পণ্য নিয়ে ব্যবসা করবেন ? কত টাকা বিনিয়োগ করবেন ? কাদের সাথে যোগাযোগ করবেন? 

এসবগুলো কিন্তু করার একমাত্র কান্ডারি বা ব্যবসায়ী নেতা আপনি । যাকে আমরা বলি উদ্যোক্তা।

আর একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আপনাকে কী কী ভূমিকা পালন করতে হবে, কিভাবে আপনাকে সাহসী পদক্ষেপ নিতে হবে, অথবা কেমন পারফরম্যান্স আপনি দেবেন, সেটা সম্পূর্ণ আপনার উপর নির্ভর করে এবং আমি নিশ্চিত এগুলি আপনি জানেন।

অবশ্যই আপনার আশেপাশে আপনি অনেক উদ্যোক্তা দেখেছেন আপনি ইউটিউবে ভিডিও দেখেছেন আপনি গুগল সার্চ করে পেয়েছেন আপনি অনেক বই পড়েছেন অথবা একাডেমিক আপনার হয়তো কিছু ডিগ্ৰী বা পড়াশোনা আছে।তার মানে আপনি সব জানেন এবং বোঝেন । এই ব্যবসা ছোট থেকে ছোট-বড় থেকে বড় অথবা মাঝারি আকারের হতে পারে । আমদানি-রপ্তানি হতে পারে । অনেক কিছু হতে পারে । সেবামূলক হতে পারে । পণ্য নিয়ে কাজ করা হতে পারে। 

এসব কিছুই আপনার প্লানের  উপর নির্ভর করে । এখন শুরুর দিকের যে কথাটি আমাকে বলতে হচ্ছে বা হবে আপনাকে যখন আপনার ব্যবসা আপনি এগিয়ে যাচ্ছেন অল্পবিস্তর কিছু লাভ হচ্ছে একটি লভ্যাংশ আপনি পাচ্ছেন । মোটামুটি আপনার গাড়ির চাকা চলছে সামনের দিকে । এমতাবস্থায় মনে রাখতে হবে যে আপনার জীবন যাত্রার মান পূর্বের মতোই সাধারণ রাখতে হবে । এই সময়টাতে আপনার বপন করা বীজ থেকে ফসল মাত্র আসতে শুরু করেছে । কিছু কিছু আসছে । আপনার হাতে আসছে, ভেরি গুড বাট সাবধানী  হতে হবে ।

খনার বচন বলে, 

কলা রুয়ে  না কেটো পাত, তাতেই কাপড় তাতেই ভাত 

আমরা অনেকে প্রথম প্রথম ব্যবসা করে বা টাকা উপার্জন করে  এই ভুলটি করে থাকি।  

বিখ্যাত অভিনেতা জ্যাকি চ্যান একবার বলেছিলেন, আমার জীবনের সবচেয়ে বড় মিসটেক হিসেবে আমি বলতে চাই যে যখন আমি অনেক টাকা পেলাম সাইনিং মানি হিসেবে, হলিউডের ফিল্ম সাইন করতে গিয়ে ; আমি এতটাই নির্বোধ ছিলাম যে আমি 1 মিলিয়ন ডলার দামের ঘড়ি কিনে ফেললাম কোনকিছু আগে পিছে না চিন্তা করেই। যদি আজকের কথা বলি আমি কোনদিনই 1 মিলিয়ন ডলারের ঘড়ি কিনতে যাবো না বরংচ আমি এই টাকা অন্য জনকল্যাণমূলক কোন কাজে খরচ করব । যাইহোক বলছিলাম যখন আপনার টাকা মাত্র আসা শুরু হয়েছে, যাত্রা কেবল শুরু হয়েছে,তখনই কোন দায়বদ্ধতার বা বিলাসিতার জিনিস নয় । বরংচ যে টাকা আপনার হাতে আসছে সে টাকা কি আপনাকে পুনরায় বিনিয়োগ করতে হবে সম্ভাব্য নতুন বিনিয়োগের জায়গা খুঁজতে হবে।  খুঁজতে হবে নতুন  ক্ষেত্র । খুঁজতে হবে কারণ এই পয়েন্টে আপনি হয়তো অনেক কিছুই জানেন না। বা এই কথা টি  হয়তো জানেন না,  ধনী মানুষেরা কখনোই তার পুঁজি খেয়ে ফেলেন না বরং লভ্যাংশ থেকে খরচা নিবারন  করেন এবং  পুঁজি বাড়ানোর দিকে মনোনিবেশ করেন । তারা পারলে কিছু সম্পত্তি কিনে রাখেন সম্পত্তি বলতে আমি শুধু জায়গা-জমি বোঝাচ্ছি না আমি বোঝাচ্ছি এমন কিছু তারা কিনে রাখেন যেগুলিকে ব্যবহার করে তারা আবার লাভ অর্জন করতে পারবেন যেমন ধরেন একটি ভালো মেশিন কিনে রাখলেন। একজন ব্যবসায়ী অর্জিত লাভ দিয়ে যে মেশিনটি  ক্রয় করলেন ভবিষ্যতে তাকে আরো বেশী টাকা অর্জন করতে সহায়তা করবে । কারণ তিনি জানেন এম,এম,এম – মেশিন মেইকস মানি 

 

অনেক দিন ধরে ভাবছি যে, বাংলাদেশের নতুন  উদ্যোক্তাদের জন্য ; যারা বয়সে নবীন যারা হয়তো বিভিন্ন কারণে, যেমন একটি ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ-পরিস্থিতি পায়নি । এই বিশ্বায়নের যুগে এবং এই প্রতিযোগিতামূলক পৃথিবীতে যখন তথ্য প্রযুক্তির বিকাশ ঘটেছে ঠিক তখন। বর্তমান পৃথিবীর এই প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায় পরিবেশ তারা নিজেদের পা শক্ত করে যেন দাঁড়াতে পারে  এ নিয়ে আমার পক্ষে যতটা সম্ভব কিছু আলোচনা করে, তাদের জন্য কিছু পয়েন্টস উল্লেখ করব । যেগুলি তাদের চিন্তার উদ্রেক করবে এবং তারা নিজস্ব চিন্তাভাবনা ব্যবহার করে নিজের জীবন গড়ে তুলতে পারবে।

 

এজন্য এই লেখাটি একজন উদ্যোক্তা’র জন্য পাঠ করা অত্যন্ত জরুরী এবং একই সাথে যিনি অলরেডি ব্যবসা করে যাচ্ছেন, তার জন্য ও কিন্তু এটি আসলে  কাজে আসবে।আমি এটা বলতে চাই যখন আপনি একজন উদ্যোক্তা’র জীবন যাপন  করবেন তখন আপনার জীবন কিন্তু আর দশজনের চাইতে আলাদা হয়ে যাবে এটা আপনাকে প্রথম থেকে ভেবে রাখতে হবে।আপনাকে আপনার নিজের চিন্তা চেতনা এবং যোগ্যতা’র উপর বিশ্বাস রেখে কিছু কিছু কাজ শুরু করতে হবে যা কিনা সফল লোকজন করে  থাকেন এবং সেসব কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে যেসব কাজ অসফল মানুষ গুলো করে থাকেন।

 

তাহলে এখানে ক্লিয়ার বোঝা যাচ্ছে যে সফল এবং অসফল মানুষে’র মধ্যে জীবনযাত্রা অনেক ফারাক রয়েছে।সফল  মানুষেরা যা দেখেন বোঝেন, যে ভাবে জীবন যাপন করেন, অসফল ব্যক্তি গণ ঠিক তার বিপরীত  দেখেন বা বোঝেন বা কর্ম গুলো করে থাকেন ।এটা পরীক্ষিত সত্য আপনি নিজে একটু চারি দিকে দৃষ্টি  মেনে দেখলে নিজে থেকেই বুঝতে পারবে আসলে এটা কতটুকু সত্য কথা সফল হওয়া অথবা না হওয়া  হলো নিজ নিজ পছন্দে’র ব্যাপার।

কেউ হয়তো সারাজীবন বুঝতেই পারেনা, যে সে কতটা অসফল অথচ একটি সুন্দর জীবন যাপন করে যাচ্ছে অন্তত তার  মতো করে।   উনার ব্যাপারে  অবশ্য আমাদের মাথাব্যথা না থাকাই উত্তম ।

 

তবে আপনি যদি গভীর ভাবে চিন্তা করে দেখেন তাহলে আপনি নিজে থেকে অনুধাবন করতে পারবেন যে তিনি কতটা অসহায় এবং আপনি যদি এই জীবন থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে চান এবং নিজের বিকশিত একটি সুন্দর জীবন যাপন করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে সেই কাজ গুলো করতে হবে যে কাজ গুলো দুনিয়ার সফলকাম মানুষ গুলো করে গেছেন, করছেন এবং ভবিষ্যতেও কালের স্রোতে আসা সেই সকল মানুষ ও  করবেন যারা সফলকাম হবেন।

যদিও সফলতা এমন একটি জিনিস, যেটি খুবই আপেক্ষিক একটি বিষয়।

যেমন ধরুন একজন স্পোর্টসম্যান যদি দৌড়ে প্রথম স্থান অধিকার করে গোল্ড মেডেল পান, তাহলে সেটা তার জন্য চরম এবং পরম সফলতা, একটি ছোট বালক যদি পরীক্ষাতে ভালো নম্বর পায়, তাহলে তার দৃষ্টিতে সেটা হচ্ছে তৎকালীন চরম সফলতা, এমনি করে সকলেই নিজের নিজের অবস্থান, পরিবেশ, পরিস্থিতি এবং নিজে যে বাস্তবতায়  রয়েছেন; তার উপর ভিত্তি করে নিজের সফলতা কে চিহ্নিত বা চিত্রিত করে থাকেন অথবা  মেপে থাকেন।

কথায় বলে জীবন আনন্দময় যার যেমন মনে হয় ।

 

ক্রমশ….